শিরোনাম

ভূরুঙ্গামারীতে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ | Bogura TV | বগুড়া টিভি


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম আল-মাহমুদের সাথে ওই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় অভিভাবক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে জানতে পেরে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক ও নারী শিক্ষকের বহিস্কারের দাবীতে। 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে চাকুরী করার সুবাদে প্রধান শিক্ষক আল মাহমুদ ও সহকারী শিক্ষিকা রোকসানা আফরোজের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেটি পরকীয়ায় রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকদের দৃষ্টিগোচর হলে তারা মৌখিকভাবে দু-জনকেই সতর্ক করে দেন। ঘটনাটি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের ফোন করে কান্নাকাটি করেন এবং সম্পর্কের বিষয়ে দুজনের মুখোস উন্মোচন করবেন বলে অভিযোগ করেন। 

গত ১২ নভেম্বর শ্যামা পুজার ছুটিতে প্রধান শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে নিয়ে রংপুরে বেড়াতে যান। পরের দিন ১৩ নভেম্বর বিরতির সময় অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে ওই নারী শিক্ষকের উচ্চস্বরে আশালীন কথাবার্তার একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অফিস কক্ষের সামনে চলে আসে এবং ঘটনাটি অনুধাবন করে।

বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত শিক্ষিকাবৃন্দ সতর্ক করলে তিনি কর্ণপাত না করে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাবেন বলে জানান। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর আতিকুর রহমান সকল শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসে প্রধান শিক্ষককে দিয়ে সরি বলিয়ে ঘটনাটি সমাধান করার চেষ্টা করেন। 

এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান মুকুট গত ৯ নভেম্বর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ঘটনায় ২৮ নভেম্বর রংপুর উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।     

বিদ্যালয়ের প্রাত্তন ছাত্র প্রভাষক বদরুজ্জামান রতন বলেন, উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিশুদের উপর এর বিরূপ প্রভাব পরছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উক্ত ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাচ্ছি।  

ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক রাজু আহমেদ জানান, তাদের এ অনৈতিক কার্যক্রমে বাচ্চারা কি শিক্ষা গ্রহন করবে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি। 

এলাকাবাসী জানায়, প্রধান শিক্ষক এর আগেও বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং পরে টাকা দিয়ে তা মীমাংসা করেন। এসব ঘটনার পর সন্তানদের আর স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না অভিভাবকরা। আর স্বাভাবিকভাবে বিব্রত স্কুলের অন্য শিক্ষকরা।

স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আগে থেকেই তাদের নিয়ে কানাঘুষা শুনতাম। কিন্তু বিষয়টি বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক। আমি ওই দুই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি। 

অভিযোগকারী শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, আমি এলাকার একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এ ঘটনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি ওই দুই শিক্ষকের অনৈতিক কাজের যথাযথ ব্যবস্থা চাই। 

প্রধান শিক্ষক একেএম আল মাহমুদ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এসব কিছুই হয়নি। 
সহকারী শিক্ষিকা রোকসানা আফরোজের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয় বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। 

উপজেলা  শিক্ষা অফিসার জোর্ত্যমিয় চন্দ্র সরকার জানান, অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার এর সাথে অনেক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা যায় নি।

No comments