শিরোনাম

বগুড়ায় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে সেলফি! নষ্ট হচ্ছে পবিত্রতা | Bogura TV | বগুড়া টিভি



আজাদুর রহমানঃ

মহান বিজয় দিবসে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কে শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা পায়ে সেলফি তোলায় ব্যস্ত হাজার হাজার দর্শণার্থীরা।

এরকম নানা ঘটনায় প্রতিনিয়তই অপবিত্র হচ্ছে শহীদ বেদী। জুতো পায়ে চলছে আড্ডা ও সেলফি তোলার মহোৎসব। বীর শহীদদের স্মৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গা এই শহীদ মিনার।

এমনই ঘটনা ঘটছে বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার খোকন পার্কে। জুতা পায়ে শহীদ বেদীতে ওঠাকে চরম অসম্মানের আখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তবে শহীদ বেদীতে জুতা পায়ে ওঠা নিষিদ্ধ জানার পরেও হর হামেশাই জুতা পায়ে উঠে শহীদদেরকে অসম্মান করছেন জমজমাট সেলফি আড্ডার দর্শনার্থীরা।

তবে হর হামেশাই সবাই জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠলেও শহীদ মিনারে দেশের জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের সম্মানার্থে নিজের মাকে জুতা খুলে উঠতে বললেন স্কুল পড়ুয়া এক শিশু, সে জানায়, যেহেতু আমরা শহীদদেরকে সম্মান করার জন্যই শ্রদ্ধা নিবেদন করছি সেখানে যদি জুতা পায়ে উঠি তবে তাদেরকে অসম্মান করা হবে।
 
শহীদদের সম্মানার্থে শহীদ মিনারের ব্যাধিতে জুতা পায়ে না ওঠার জন্য একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি টাঙ্গানো হয়েছে শহীদ মিনানের পাশেই, তবে সেই নোটিশকে অমান্য করে শীতকাল এবং জুতা হারানোর অজুহাত দিচ্ছেন শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত দর্শনার্থীরা, তাদের কাছে জুতা পায় ওঠার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান, যেহেতু এখন শীতকাল তাছাড়া জুতা রাখার নিরাপদ কোন জায়গা নাই তাই সবাই জুতা পায়ে উঠছে আমরাও জুতা পায়ে উঠছি।

বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে জুতা পায়ে উঠতে নিষেধ করলেও দিনের পর দিন এভাবেই শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠছে দর্শনার্থীরা ফলে স্বাধীন বাংলার শহীদদের শ্রদ্ধা দিন দিন হ্রাস পেয়ে যাচ্ছে। 

তবে শহীদ মিনারে শহীদদের সম্মান জানিয়ে বছরের পর বছর প্রভাব ফেড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে, দিবসটিতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালিকে এক হয়ে শহীদদেরকে সম্মান করা এবং জুতা পায়ে না ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়া জেলা সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, তিনি জানান, শহীদদের সম্মান করতে আমরা দীর্ঘদিন থেকেই শহীদ মিনারের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করি সেখানে শীতকাল অথবা জুতো হারানোর বিষয়টি এটি একটি অযৌক্তিক দাবি, তবে জেলা প্রশাসকের কাছে আমি অনুরোধ করবো আগামী বছর থেকে যদি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কাউকে এখানে দায়িত্ব দেওয়া যায় এবং প্রচারণা বাড়ানো যায় তবে সাধারণ মানুষ জুতা পায় ওঠা থেকে বিরত থাকবে বলে আমার মনে হয়।


No comments