শিরোনাম

সারিয়াকান্দিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা ফসল সবুজ মোচায় যেন কালো মানিক কৃষকের স্বপ্ন দোল খাচ্ছে | Bogura TV | বগুড়া টিভি



সামিউল ইসলাম সনি,সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ 

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে  আমন ঘরে তোলার পর বেশ কিছু সময় ফাঁকা পড়ে থাকে ফসলি জমি। কৃষক তো আর বসে থাকতে পারে না। আর ঘরে বসে থাকলে তো পেটে ভাত যাবে না। 

কারণ ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাদের। তাই আমন ঘরে তোলার পরপরই তারা নেমে পড়েন সেই ফাঁকা ফসলি জমিতে। 

আমন ধান কাটার পর সেই জমিতে সরিষা চাষ করে, ভাল ফলন পাচ্ছেন।এতে করে এ এলাকায় তৈল জাত শস্য উৎপাদনে ব্যাপক ভুমিকা পালনের পাশাপাশি, আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এ এলাকার চাষিরা।


 স্থানীয়  চাষীরা   জানায়,এলাকায় রবি মৌসুমে গম,কাউন,কালাই,খেরাচি,ভুট্টা, মরিচ ও অন্যান্য শাক সবজীর ব্যাপক চাষ হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকরা সরিষা চাষে  অধিক হারে  ঝুঁকে পড়ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের ভালো পরামর্শ পেয়ে উন্নত জাতের সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।ভালো ফলন পাচ্ছেন।বাজারে সরিষার দাম ভালো থাকায় আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। 

এ মৌসুমে বিল ও চরাঞ্চলের চাষিরা ব্যাপক ভাবে সরিষার চাষ করেছেন।উপজেলার বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা যায়,  জমিতে হলুদ ফুলে- ফলে  দিগন্ত জোড়া মাঠে হলুদ সরিষার ফুল শোভা পাচ্ছে। চর এলাকায় দেশী সরিষা চাষের পাশাপাশি বিল এলাকার চাষীরা উন্নত জাতের সরিষা চাষ করেছেন। তবে বিল এলাকার চাষীরা বর্ষালী ও আমন ধান কাটার পর আধুনিক পদ্ধতিতে  জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ করেছেন। 

সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের চাষী বেলাল হোসেনের সরিষার জমিতে গিয়ে দেখা গেল, প্রায় তিন ফুট লম্বা সরিষার গাছে থোকা থোকা মোচায় কালো সরিষার দানা ধরেছে। মনে হলো জমিতে সরিষার গাছে যেনও কালো মানিক কৃষকের স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। 


কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, আমনের মৌসুমে জমিতে  এ জেড জাতের ধান করেছিলাম। এ ধান কার্তিক মাসের ১৫ দিন যেতেই কর্তন করার পর  ধানের ষোল আনাই  পেয়েছি।

 পরে ওই জমিতেই বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি ।প্রায় ৪ বছরে  ৩ বিঘা জমিতে এ ভাবে চাষাবাদ করে ভালো ফলনের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছি আমি। এ বছরে ধানে ষোল আনা ফলন পাওয়ার পর,  ওই জমির বিঘায় কমপক্ষে ৭ মন করে সরিষার ঘরে তুলতে পাবো আশা করছি।


 উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত আলী জানান,এ মৌসুমে এই উপজেলায় ৩৫'শ ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় চাষীরা ভালো ফলন পাবেন এবার। 


উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম বলেন ,আগে চাষীরা সরিষা চাষ করে জমিতে অল্প পরিমাণ ফলন পেতো।এখন আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ অধিক ফলন পাচ্ছেন। বাজারে দামও  ভালো থাকায় চাষীরা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এক্ষেত্রে  রয়েছে আমাদেরও অনেক অবদান।

No comments