পেঁয়াজের ঝাঁজে ক্রেতার চোখে জল, প্রতি কেজি ২০০ টাকা | Bogura TV | বগুড়া টিভি
খালেদ সিদ্দিকী, চিফ রিপোর্টার।
আবারো বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, দেশি পুরাতন পেঁয়াজ, কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। প্রকারভেদ অন্যান্য পেঁয়াজের দামও বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
শনিবার ৯ ডিসেম্বর বগুড়ার ফতেহ আলী কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি।
ফতেহ আলী বাজরে কথা হয়, বগুড়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, গোলাম কিবরিয়ার সাথে, বাজারের ব্যাগ হাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করি, বাজারে এসে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে, গত কয়েকদিন আগে যেই পেঁয়াজ ১৫০ টাকায় কিনেছিলাম, সেটা আজকে দোকানদার ২০০ টাকা কেজি চাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আর বাজার করতে হবে না। আমাদের বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো বাপ-মা নাই, যে যেমন পারছে তেমনি দাম হাঁকাচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা, নরেশ এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা পাইকারি কিনে খুচরা বেচি, গতকাল পাইকারি বাজারে দেশীয় পুরাতন পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কিনে ১৭০ টাকায় বিক্রি করেছি, কিন্তু আজ আড়তে কিনতে গেলে ১৭০-১৮০ টাকা দাম নিয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে আমিও দাম বাড়িয়ে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
বগুড়ার বৃহত্তর পাইকারী বাজার, রাজা বাজারের বিভিন্ন আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে দাম বাড়ার একই চিত্র।উক্ত বাজারের কৃষ্ণ ভান্ডার, নামক পিঁয়াজের আড়ৎদারের ম্যানেজার, বিশু জানান, নতুন দেশি পেঁয়াজ আজ আমরা প্রকার ভেদে ১১০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি করছি, এই পেঁয়াজ গতকাল ৯৫ টাকা থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
এলসি বন্ধ হওয়ায় ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ আমাদের আড়তে নেই।
এক রাতের ব্যাবধানে এই মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ও একই সময় আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণেই হটাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, এখন নতুন পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হয়েছে, বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের জমি কর্দমাক্ত হওয়ায়, কৃষক নতুন পেঁয়াজ তুলতে পারছেনা, আকাশ পরিষ্কার হলে, জমি থেকে নতুন পেঁয়াজ উঠবে, এতে দ্রুত পেঁয়াজের দাম কমবে বলে তিনি জানান।
একই বাজারের আরেক পেঁয়াজের আড়ৎ, রাজ ভান্ডারের ম্যানেজার, লিটন জানান, আমরা দেশী নতুন পেঁয়াজ প্রকার ভেদে ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করছি, এই একই পেঁয়াজ গতকাল ৮৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।
এবং দেশি পুরাতন পেঁয়াজ ১৭০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করছি। আমাদের আড়তে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ নেই।
দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন হটাৎ পেঁয়াজের এলসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে, তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য দাম বাড়ার কারণে, যেভাবে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে বাজারে ছুটে এসেছেন, তাতে সুযোগ সন্ধানী খুচরা ব্যবসায়ীরা, অধিক মুনাফা করে পেঁয়াজ বিক্রি করছে।
তবে আবহাওয়া ভালো হলে পেঁয়াজের দাম কমবে বলে তিনি ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
.jpg)
No comments