বিনা টিকিটে প্লেনে উঠা সেই জুনায়েদের আরেকটি স্বপ্ন পূরণ | Bogura TV | বগুড়া টিভি
বগুড়া টিভি ডেস্কঃ
পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেট কিংবা বোর্ডিং পাস; কিছুই ছিল না জুনায়েদ মোল্লার। তারপরও কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে চড়ে বসে ১২ বছর বয়সী ওই শিশু। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জুনায়েদ মোল্লা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের পারইহাটি গ্রামের ইমরান মোল্লার ছেলে।
জুনায়েদের শখ ছিল প্লেনে চড়ে আকাশ দেখার। শখ পূরণে বিমান বন্দরের কড়া নিরাপত্তার ফাঁক গলিয়ে বিনা টিকেট ও ভিসায় প্লেনে উঠে বসে সে। শেষ পর্যন্ত প্লেনের কর্মচারীদের হাতে ধরা খেয়ে নীল আকাশে উড়ে বেড়ানোর শখ পূরণ হয়নি তার। প্লেন থেকে তাকে নামিয়ে আনা হয় আর স্বপ্নভঙ্গ হয়ে বাড়িতে চলে আসতে হয় জুনায়েদকে।
গণমাধ্যমের বেশ প্রচার হওয়ায় জুনায়েদের ঘটনাটি অনেকেরই জানা। সে দিন তার স্বপ্ন পূরণ না হলেও পরবর্তীতে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কক্সবাজারে প্লেনে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পাইলট হতে চাওয়া জুনায়েদের স্বপ্নের একধাপ পূরণ হয়।
এবার সেই জুনায়েদের আরেকটি স্বপ্ন পূরণ করল গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কয়েকদিন আগে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে গণশুনানীতে অংশ নেয় জুনায়েদ।
সেখানে সে নিজের পাইলট হওয়ার ইচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তার বাড়ির সামনের বাঁশের সাঁকোর বদলে মানুষের পারাপারের জন্য একটি কাঠের সেতু বা ওয়াকওয়ে বানানোরও আবদার জানায় জেলা প্রশাসকের কাছে।
জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম তার স্বপ্ন পূরণের জন্য গোপালগঞ্জ শিশু পরিবারে তার ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন এবং বাড়ির সামনে একটি ওয়াকওয়ে বা কাঠের সেতু তৈরি করে দেবার আশ্বাস দেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী মুকসুদপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুনায়েদের বাড়ির সামনে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেন।
কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়ে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম তার আরেকটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় জুনায়েদের সঙ্গে খুশি স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের খাল পারাপারের যে সমস্যা ছিল তা থেকে রেহাই পেয়ে জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সবাই।
জুনায়েদ সেতু নির্মাণ করায় জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, ‘আমার আবদারে সেতু হওয়ায় আমি খুবই খুশি। এলাকায় সবাই আমাকে এখন খুব ভালো বলছে।
No comments