বগুড়ায় মালেকা নার্সিং হোমে ভূল চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যুর অভিযোগ | Bogura TV | বগুড়া টিভি
আজাদুর রহমানঃ
বগুড়ায় মালেকা নার্সিংহোম নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের নাম আইরিন পারভীন। তিনি বগুড়ার কাহালু উপজেলার জামগ্রাম দুয়ারি গ্রামের নুর আমিনের স্ত্রী। কিছুদিন থেকে তারা শহরের বাদুড়তলায় বসবাস করতেন।
২৮ শে ডিসেম্বর সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজন জানান, গল ব্লাডার এ মাংস বৃদ্ধি
অপারেশন করার জন্য ২৭ ডিসেম্বর বগুড়া মালেকা নার্সিং হোমে নামের ক্লিনিকে ভর্তি করালে অপারেশনের পর ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৬ টায় আইরিন মারা যায়। অপারেশন করেন ডা: শাহজাহান আলী।
এর আগে টনসিলের অপারেশন করতে এসে ভুল চিকিৎসায় হুমায়রা খাতুন নামের এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের পর শিশুর মৃত্যু হলেও ডাক্তার অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে জানিয়ে ওটি থেকে বের হয়ে যান। পরে শিগগির জ্ঞান ফিরবে জানিয়ে নার্স শিশুকে বেডে দিয়ে যায়। পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেলেও শিশুর জ্ঞান আর ফিরে আসেনি।
এ ঘটনায় নার্সিং হোমে ভাঙচুর করা হলে চিকিৎসক এবং কর্মচারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিশু হুমায়রা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা এলাকার হারুন-অর-রশিদের মেয়ে।
হুমায়রা খাতুনের মামা আলমগীর হোসেন জানান, টনসিলের প্রদাহ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তারা শহরের মালেকা নার্সিং হোমে নাক-কান ও গলা চিকিৎসার সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সাইদুজ্জামানের পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন শিশুটিকে। তার পরামর্শ মতো ১১ হাজার টাকায় মালেকা নার্সিং হোমে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ওই চিকিৎসকই হুমায়রার টনসিলে অস্ত্রোপচার করেন।
অস্ত্রোপচার শেষে ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে বলেন অপারেশন সাকসেসফুল। এরপর নার্স শিশুকে বেডে দিয়ে যাওয়ার সময় বলে যায় খুব শিগগির জ্ঞান ফিরবে। কিন্তু দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হুমায়রার জ্ঞান ফেরেনি। বিষয়টি ক্লিনিকে কর্তব্যরতদের জানানো হয়।
পরে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই ডাক্তার হুমায়রাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর হুমায়রাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে মালেকা নার্সিং হোমে ফিরে আসে।
হুমায়রার মরদেহ মালেকা নার্সিং হোমে নিয়ে আসার পর ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা কিছু ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। এসময় চিকিৎসক-সেবিকাসহ ওই নার্সিং হোমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রতিষ্ঠান থেকে সটকে পড়েন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শফিউল আজম জানান, এ বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো। কিছুদিন হলো বগুড়ায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের কারনে রোগী মারা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফ্রর্মে স্বাক্ষর করেই সিজার করার কথা, তবে বিষয়টি নিয়ে আমি তদন্ত করবো।

No comments