বগুড়ায় নেই র্টামিনাল! তবুও চলছে চাঁদাবাজি | Bogura TV | বগুড়া টিভি
আজাদুর রহমানঃ
বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার পৌরসভার বিরুদ্ধে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের নামে চলছে চাঁদাবাজি। টোল আদায়কে কেন্দ্র করে একদিকে রাস্তায় লেগে থাকে যানজট।
অন্যদিকে টাকা দিতে না চাইলে চালকদের সঙ্গে আদায়কারীদের ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৌর কর্তৃপক্ষ এ চাঁদা আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে হরহামেশাই।
জানা যায়, সড়ক বা মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায় বন্ধ করতে মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং- ৪৬/৪০/২০২২ এর মোতাবেক পিটিশনে ২১ এপ্রিল ২০২২ সালে এক আদেশে বাস টার্মিনাল ব্যাতিরেকে কোনো সড়ক বা মহাসড়ক থেকে টোল উত্তোলন না করার জন্য সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব। ২৫ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পৌরসভার বিধানের ৯৮ ধারার ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে শুধুমাত্র পৌর মেয়র নির্মিত টার্মিনাল ছাড়া পার্কিং ফির নামে টোল আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। অথচ বছরের পর বছর ধরে পৌর উন্নয়নের নামে বগুড়ার পৌরসভা গুলোর কর্তৃপক্ষ পৌর টোল আদায়ের রসিদ দিয়ে সড়ক ও মহাসড়কের একাধিক স্থানে চাঁদা উত্তোলন করছে।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিটি এলাকা, জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকার সকল প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টার্মিনালের বাইরে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে টোল আদায় অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বগুড়ার পৌর কর্তৃপক্ষরা।
বগুড়া-নওগাঁ, বগুড়া-রংপুর, বগুড়া-রাজশাহী, বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া ২য় বাইপাস এবং পৌর এলাকা সড়কে চলাচলকারী অটো টেম্পু, অটোরিকশা, অটোবাইক, সিএনজি, ট্রলি, নছিমন, করিমনসহ যানবাহন গতিরোধ করে রশিদ দিয়ে টোলের নামে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়াও বগুড়ায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক অটোরিকশা ও অটোভ্যান, ৩০ হাজারেরও বেশি সিএনজি চালিত অটোরিকশা আছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে অটোরিকশা, অটোভ্যান আসলেই তাদের কাছ থেকে পৌর টোল নেয়া হচ্ছে।
অথচ বেশিরভাগ পৌর এলাকায় কোন টার্মিনাল নেই। আর জায়গাগুলোতে কোন যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থাও নেই। তারপরেও পৌরসভার ভিতরে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে লাটি নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় তাদেরকে। গাড়ি আসলেই দাঁড়িয়ে লাটি দিয়ে গাড়ি আটকিয়ে গাড়ির সামনে গিয়ে রিসিভ দিয়ে প্রকাশ্যে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রশিদের মাধ্যমে টোল নেওয়ার নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রতিনিয়ত চালকদের সাথে ঝগড়াঝাটি করছে চাঁদা উত্তোলনকারীরা।
চালকরা বলছেন আমরা দিনে ৫ থেকে ৬শ টাকা ইনকাম করি কোন রকম ভাবে পরিবার পরিজন মিলে বেঁচে আছি। রাস্তায় ভাড়া মারতে আসলে এই মোড়ে ২০ টাকা আরেক মোড়ে ৫০ টাকা এই রকম করে চাঁদা দিতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।
চালকদের দাবী এই টোল ফির নামে চাঁদাবাজী বন্ধ হলে তারা আরো স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারবে। তাই তারা চাঁদা বন্ধ করতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি চায়।
তবে এ বিষয়ে জানতে বগুড়া পৌর মেয়রকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সাথে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বললে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, যেখানে অবৈধ টোল আদায় হয়, আমরা খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

No comments