শিরোনাম

মহাসড়কের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে সাখাওয়াত হোসেন | Bogura TV | বগুড়া টিভি



আজাদুর রহমানঃ

বগুড়ায় মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন থেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছে শাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তি। দেখা যায় শহরের বনানী থেকে মাটিডালী মহাসড়কে তিনমাথা রেলগেটে এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সামনে একটি ছাউনি বেঁধে অবস্থান করছে সাখাওয়াত হোসেন নামের এই ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাড়ি জেলার গাবতলী উপজেলার নবগঠিত ১২ নং সুখানপুকুর ইউনিয়নের ডঙর গ্রামে। বাবা আমিরুদ্দিন এবং মা সাবিনি বেগম ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়।

পরবর্তীতে বিয়ে করেন এলাকাতেই। সংসার জীবনে দুটি কন্যা সন্তান এবং একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই টিবি রোগে আক্রান্ত হয় তার সহধর্মিনী এবং আর্থিক অনটনের কারণে যথাযথ চিকিৎসা করতে পারেন না তিনি। এক পর্যায়ে না ফেরার দেশে চলে যায় তার স্ত্রী। 

দুইটি কন্যা এবং একটি পুত্র সন্তানই তার শেষ ভরসা। কন্যা সালমা এবং রাশেদার বিয়ে দিয়ে ছেলেকে ভর্তি করান সারিয়াকান্দি উপজেলায় একটি হাফেজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসায়। ছেলে ১১ পারা কোরআনের হাফেজ হয়েছেন। ৩ শতক জমির দান করার কথা থাকলেও তা ফিরিয়ে নেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে হতাশ হয়ে অবস্থান নেন মহাসড়কের পাশে। সেখানে ধূলা বালুর কণার কারণে শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে তার শরীরে। 

কখনো ট্রাকের চালক সহকারি, আবার কখনো রাস্তা থেকে ইট কুড়িয়ে এনে বিক্রি করে খন্ডকালীন কাজ করেই চলছে তার মানবেতর জীবন। 

কখনো কেউ সাহায্য সহযোগিতা করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সড়কের পাশে এভাবে বসে আছি কেউ তো কোনদিন খাবার দিলো না, কখনো কেউ খোঁজ নিতে আসেনি, দেশের জন্য আমার বাবা-মা প্রাণ দিয়েছে আমরা কিছুই পাইনি।

No comments