বগুড়ায় আমন আবাদে কৃষকের মুখে সোনালী হাঁসি | Bogura TV | বগুড়া টিভি
আজাদুর রহমানঃ
আবহাওয়া আর রোগবালাই কম হওয়ায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় গড়ে ৩ মণ ধান বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তবে পুরো কাটা-মাড়াই শেষ হলে ধানের দাম কেমন থাকবে তা নিয়ে শংশয় রয়েছে। ব্যবসায়িদের পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিরাও মনে করছেন চাষের খরচ আর দ্রব্যমূলের বিবেচনায় ধানের দাম আরও বাড়াতে হবে।
দেশে হরতাল আর অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে সব ধরনের ধানের দাম কমেছে। গত বছরের তুলনায় ৯০ জাতের প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে গড়ে ২শ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি না থাকলে বাজারে দাম ধীরে ধীরে বাড়বে।
কৃষকেরা বলছেন, বগুড়ার এবার আমন ধানের ফলন বেড়েছে। আর পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় রোগবালাই নেই। এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে গড়ে ১৭ মণ করে। এছাড়াও জমির উর্ব্বরতার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন এলাকায় জাতভেদে ফলন বেড়েছে গত বছরের তুলনা বেশি।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুসারে, এবার জেলায় ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৫০ বিঘা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আবাদ হয়েছে আরও ৭৫ বিঘা বেশি। শেরপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রামে সবচেয়ে বেশি আমন আবাদের পাশাপাশি আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, কাহালু আর ধুনটেও ফলন হয়েছে ভাল।
ইতোমধ্যে ৩৭ শতাংশ ধান জমি থেকে কাটা হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ৯০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হবে বলে জানিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুর রহমান।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, সারাদেশে এ বছর ৪ কোটি ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬০ বিঘায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে অন্তত দুই লাখ ৯১ হাজার ১৬০ বিঘা বেশি। একই সাথে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা প্রতি বিঘায় প্রায় ১৬ মণ নির্ধারণ করলেও শুরুতেই ফলন পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ১৭ মণ করে। গত বছর কাটা-মাড়াই শেষে আমন ধানের গড় ফলন মেলে ১৬ মণ।
আবহওয়া স্বাভাবিক থাকলে জমিতে থাকা আরও ৬০ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই শেষে গড় ফলন আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৪ কোটি মণ ধান বেশি পাওয়া যাবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতলুবর রহমান জানান, “ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। গড় ফলন ১৭ মণ হলেও পুরো কাটা মাড়াই শেষে আরও বাড়বে। গত বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় ফলন বেড়েছে।”

No comments