বগুড়ায় মাদ্রাসায় নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকা অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে আওয়ামী লীগ নেতা | Bogura TV | বগুড়া টিভি
আজাদুর রহমান ও ফয়সাল হোসাইন সনিঃ
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বগুড়ার কাহালু উপজেলার শীতলায় সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ দিয়েছে তথাকথিত সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন।
দাখিল মাদ্রাসায় চারটি পদে অর্ধ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরীক্ষার আগেই অর্ধ কোটি টাকার বিনিময়ে চারজনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত আছে উপজেলা চেয়ারম্যান হাসিবুল হাসান সুরুজ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, দাখিল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসা শাখার ডিজির প্রতিনিধি। চার পদে সাতাশ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও চারজনকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী, আয়া, পরিচ্ছন্নকর্মী এবং অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদন করেন ২৭ জন।
শুক্রবার ২৪ শে নভেম্বর পরীক্ষার দিন সকালে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষে নৈশপ্রহরী পদে একজন উত্তীর্ণ প্রার্থী জানান, আমার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, যেহেতু আওয়ামী লীগের লোকজন সব কিছু করছে সেহেতু সাড়ে তিন লক্ষ টাকার বিনিময় আমার চাকরি কনফার্ম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়া পদে দরখাস্তকারী একজন জানান, ৫ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছি কিন্তু সভাপতি বলেছেন আরও বাড়িয়ে দিতে হবে তাছাড়া চাকরি হবে না। বাধ্য হয়ে আমি ৫ লাখ টাকার বেশি দিতে চাইলেও আর্থিকভাবে আমি সচ্ছল নই। তাই হয়তো আমার চাকরিটা হবে না।
স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জানান, যেহেতু সব ধরনের নিয়োগেই আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকে, সেক্ষেত্রে টাকা লেনদেন এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক পরিষদের সদস্য জানান, টাকা পয়সা যা লেনদেন সব সুরুজ ভাই করছে। চার পদের নিয়োগ দিয়ে যে টাকা উত্তোলন হবে সেই টাকা আমাদের প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ফান্ডে রাখবো। এগুলা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না সুরুজ ভাই সব জানে।
স্থানীয় একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, বাংলাদেশে কোন নিয়োগ টাকা ছাড়া হয় না, এখানে ৪ পদে নিয়োগ দিয়ে যে টাকা উত্তোলন হবে তার কিছু পরিমাণ উন্নয়ন ফান্ডে যাবে, কিছু টাকা পকেট ফান্ডে যাবে, আপনারা সবি জানেন এবং বোঝেন।
লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ডিজির প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, আদালতে মামলা চলমান সেই বিষয়ে আমাদের কোন এখতিয়ার নাই, আমি তো ম্যাজিস্ট্রেট নই। ডিজি মহোদয় প্রবিধান অনুসারে যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমি শুধু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এখানে এসেছি। যেহেতু মামলার বিষয়ে আমার কোন নির্দেশনা নেই তবে যথাযথ ডকুমেন্ট সাপেক্ষেই ডিজি মহোদয় তদন্ত করে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছেন আমি সেই লক্ষ্যে এখানে এসেছি এবং পরীক্ষা নিয়েছি। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি প্রবিধান বা আমার কাজ নয়। এটি যারা অভিভাবক সদস্য রয়েছে এবং সভাপতিসহ কমিটির কর্তৃপক্ষরাই ভালো জানেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাহালু শীতলাই সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন জানান, আমার বিরুদ্ধে যে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়া ভিত্তিহীন। আমি কারো কাছে কোন টাকা নেইনি, আপনারা কি পারেন করেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুল হাসান সুরুজ জানান, আমি তো ঐ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি না, অথবা অন্য কোন পদে নাই যে কারণে নিয়োগের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। আমার নামে যে কেউ অভিযোগ তুলতে পারে তবে সেই অভিযোগগুলো সত্যি নয়।

No comments