শিরোনাম

৭২ টাকার শিশুদের স্যালাইন ৬০০ টাকাতেও মিলছে না | Bogura TV | বগুড়া টিভি



বগুড়া টিভি ডেস্কঃ

রাজশাহীতে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত স্যালাইনের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বালাই নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের স্যালাইন মিলছে না। আর এ সুযোগে ওষুধ ব্যবসায়ীরা জনসাধারণের কাছ থেকে স্যালাইনের গলাকাটা দাম নিচ্ছেন। মাত্র ৭২ টাকার স্যালাইন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকাতেও। পরিস্থিতি এমন তৈরি করা হয়েছে যে, হাজার টাকা দিলেও স্যালাইন মিলবে না।

সোমবার (২০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজশাহী মেডিকেলের তিন তলার ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে যাবার পথে চোখে পড়লো বারান্দায় অসুস্থ শিশুরোগীদের ভিড়। সাধারণত শীতকালে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় এই ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বেশি থাকে।

গোদাগাড়ি উপজেলার রমজান আলী, তার তিন বছরের সন্তানকে খিঁচুনি জনিত সমস্যার কারণে গত দুই দিন আগে রাজশাহী মেডিকেলের ওই ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন। সৌভাগ্যবশত ওয়ার্ডের ভেতরে ভাগাভাগি করে একটি বেডের অর্ধেক স্থান পেলেও পাননি হাসপাতালের দেয়া স্যালাইন।

চিকিৎসকের লিখে দেয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পেডিসল নামে পপুলার কোম্পানির দুটি স্যালাইন বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে তাকে গুনতে হয়েছে এক হাজার টাকা। যদিও অনেকটা খুঁজে খুঁজে এটি পেতে হয়েছে তাকে। অথচ স্যালাইনটির প্রতিটির গায়ে দেয়া এমআরপি মূল্য মাত্র ৭২ টাকা। 

একই অবস্থা কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থেকে আসা জাহিদুলের। ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানের জন্য একই স্যালাইন তিনি কিনেছেন সাড়ে চারশো টাকায়। আর ঈশ্বরদী থেকে আসা আব্দুর রহমান তার ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া নাতির জন্য একই স্যালাইন কিনেছেন সাতশো টাকায়।  স্যালাইন একই, কিন্তু দোকানে দাম ভিন্ন ভিন্ন।

সবচেয়ে বড় কথা, সংকটের এই সময়ে স্যালাইনগুলোর কোনো নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বিপদে পড়া স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত দাম নিয়ে নেয়া হচ্ছে। যেনো দেখার কেউ নেই।

কি কারণে স্যালাইনের এমন সংকট? আর কেনোই বা স্যালাইনের দাম ৫ থেকে ৬ গুন বেশি তা জানতে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুরে অন্তত ১৫টি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে শিশুদের জন্য পেডিসল, এপিএন, এনএস, ডিএ, এইচএস, নিউট্রিডেক্স এবং নরমাল স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে। ওষুধ ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কথা স্বীকার করে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোষ চাপিয়েছেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

 বলছেন তারা চাহিদা মতো স্যালাইন পাচ্ছেন না। যারা বেশি দামে স্যালাইন বিক্রি করছেন তারা অনেক কষ্ট করে পাশের জেলাগুলো থেকে স্যালাইন আনছেন।

একটি সূত্র বলছে, বাস্তবতা হলো স্যালাইন কয়েক হাত ঘুরে আসছে না। আসছে কোম্পানি থেকে সরাসরি। কিন্তু সংকট তৈরি হচ্ছে দোকান থেকেই। অসাধু ব্যবসায়ীরাই এটি তৈরি করছেন বেশি মুনাফার আশায়।

সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নগরীর লক্ষ্মীপুরে বারিন্দ মেডিকেলের সামনের রাস্তার বিপরীতে মার্কেটের দুটি ওষুধের দোকানে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে স্যালাইন চাওয়া হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্যালাইন প্রতিবেদকের হাতে দেন দোকানীরা। দাম বেশি রাখার কারণ জানতে চাইলে তারা এমআরপি রেটে বিক্রির দাবি করেন।

কিন্তু অন্তত ১০টি দোকানে সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন করে সাধারণের বেশে স্যালাইনের খোঁজ করা হলে স্যালাইন নেই বলে সাফ জানানো হয়। অনেকেই পরে ম্যানেজ করে দেবার কথা বলে বেশি দাম চেয়ে বসেন।

শিশুদের স্যালাইন সংকটের কথা স্বীকার করে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহাম্মদ বলছেন, ‘শীতকালে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। 

স্যালাইনগুলো তাদেরই প্রয়োজন হচ্ছে। সংকট নিরসনে একই গোত্রীয় বড়দের স্যালাইন শিশু উপযোগী করে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আশা করছেন অচিরেই এমন সংকট কেটে যাবে। তিনি বলছেন ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার পুরোপুরি স্যালাইন দিতে পারছে না। তবে এটি মেজর সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে না। যে ভাবেই হোক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেলের তিনটি শিশু ওয়ার্ড ৯, ১০ এবং ২৪ এর বেড সংখ্যা আড়াইশ। বর্তমানে সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্যালাইনের চলমান সংকট নিরসন না করা গেলে আসছে তীব্র শীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

No comments