শিরোনাম

মাগুরার ২টি আসনে সাকিবের মনোনয়ন জমা: যা বলছেন আ. লীগ নেতারা | Bogura TV | বগুড়া টিভি




বগুড়া টিভি ডেস্কঃ

মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ বিষয়ে জেলার সর্বত্র চলছে নানা আলোচন সমালোচনা। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক কোন অবস্থানে নেই জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা-১ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন- জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব, এস এম শফিকুল ইলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা আমীর ওসমান, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি মিরুল ইসলাম। 

মাগুরা-২ আসন থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন- আওয়ামী লীগের বিজয়ী এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীরেন শিকদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সদস্য নির্মল চ্যাটার্জী, জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওহিদুর রহমান টিপু, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য কবিরুজ্জামান, 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা কাজী শরিফ উদ্দিন, প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আইয়ুব বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সৈকতুজ্জামান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শেখ নবীব আলী, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, সাংবাদিক শাহিদুল হাসান খোকন, ফয়জুর রহমান চৌধুরী, আব্বাস আলী কৈরাশী। 

সাকিবের মনোনয়ন জমা ও দলীয় মনোনয়নে যোগ্য প্রার্থী প্রাপ্তির প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করেছেন নেতিবাচক মন্তব্য। 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, জেলায় আমরা রাজনীতির পরিক্ষিত মানুষদেরকেই এমপি হিসাবে দেখতে চাই। হঠাৎ করে কাউকে চাপিয়ে দিলে বিশেষ করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে বুঝানো দায় হয়ে পড়ে। তৃণমূলের মানুষ সবসময় যাদের সহজে কাছে পেয়েছেন কিংবা পান, সবসময় তাদেরকেই ভোট দিতে পছন্দ করেন-। তবে আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও বাণিজ্য ষিষয়ক সম্পাদক কলেজ শিক্ষক ও ব্যবসায়ী মাজেদুল হক ঝন্টু বলেন, সাকিব আল হাসান ক্রিকেটে ভালো, জেলার রাজনৈতিতে তার কোন অবস্থান কোনদিন ছিল না, এখনো নেই। তিনি কেন মাগুরা থেকে মনোনয়ন জমা দিলেন তার কোন কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।

জন প্রতিনিধি হতে গেলে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ থাকুক কিংবা না থাকুক অন্তত তাকে জেলার সামাজিক ও মানবিক সেবার ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকতে হয়। এই জনপদের মানুষ হিসাবে সাকিব আল হাসানের পক্ষে সেই কথাটা বলার মতো অবস্থা তিনি রাখেননি। তিনি জেলায় লুকিয়ে আসেন লুকিয়ে চলে যান। কেউ তাকে দেখতে এলে তিনি বিরক্ত হন। এমনকি যত দ্রুত সম্ভব ঈদের নামাজের মাঠ পর্যন্ত পরিত্যাগ করেন।

যাতে করে মানুষের সান্নিধ্যে আসতে না হয়। আমার জানা মতে, জেলার সাংবাদিকদের পর্যন্ত এড়িয়ে চলেন। এ ধরনের তারকাদের জন্য রাজনীতি নয়। রাজনীতি করতে হলে জনপ্রতিনিধি হতে হবে, সামাজিকতা শিখতে হবে। রাজনীতির বর্তমান এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে অহেতুক আমরা কোন চাপ নিতে চাই না।

জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম বিপু বলেন, আমাদের জানা মতে সাকিব আল হাসানের জেলার মানুষের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। নির্বাচন এলে অনেককেই মনোনয়ন কিনতে দেখছি। কিন্তু আমরা যারা জেলার রাজনীতির সঙ্গে আছি কোনদিনতো সামান্য কুশল বিনিময় করতে দেখি না। দুঃসময়ে রাজনীতির মাঠে থাকাতো দূরের কথা।

এ কারণে আমরা দলীয় ও জনগণের সমর্থন যোগ্যদেরকেই আগামী নির্বাচনে জেলায় মনোনয়ন দেবার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে শেখ হাসিনার কাছে আবেদন রাখতে চাই। না হলে সাংগঠনিকভাবে দল অনেক পিছিয়ে যাবে। অতীতে যার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বলেন, সাকিব দলীয় মনোয়ন চাইছেন। মাগুরা রাজনীতি কিংবা শ্রেণি-পেশার কতজন মানুষের নাম তিনি বলতে পারবেন সেটা আমাদের জানা নেই। এ কারণে রাজনৈতিক পর্যায়ে শুধু নয়, কোন পর্যায়েই তাকে নিয়ে কোন কৌতুহল নেই।

শহরের চা দোকানী সেন্টু দত্ত বলেন, সাকিব আল হাসান আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। তাহলে এতদিনে কিছুটা অন্তত বুঝতাম। শুনেছি তিনি অনেক টাকার মালিক। খেলোয়াড় হিসাবে তিনি আমাদের কাছে অনেক গর্বের। আমরা যেমন অছি অনেক ভালো আছি। যারা বর্তমানে এমপি আছেন তারা অনেক ভালো।

No comments