শিরোনাম

পুলিশি তদন্ত: নিজের সন্তানকে যেভাবে হত্যা করলেন মা | Bogura TV | বগুড়া টিভি

পুলিশি তদন্ত: নিজের সন্তানকে যেভাবে হত্যা করলেন মা


বগুড়া টিভি ডেস্কঃ
ভারতে নিজের সন্তানকে খুনের ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের পর অবশেষে খুনের ধরণ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নিজের ছেলের মরদেহভর্তি ব্যাগসহ সোমবার (৮ জানুয়ারি) রাতে গ্রেপ্তার হওয়া সূচনা শেঠির হোটেল রুমে বেশ কয়েকটি কাশির সিরাপের বোতল পেয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ বলছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে পরিকল্পনা করেই ছেলেকে খুন করেন সূচনা। খুনের আগে ছেলেকে প্রচুর কাশির সিরাপ খাওয়ান তিনি। গোয়া পুলিশ জানায়, ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মিলেছে কাশির সিরাপের একাধিক খালি বোতল। পুলিশের ধারনা, সন্তানকে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ খাওয়াতেন সূচনা।

পুলিশের ধারণা, অনেক দিন ধরেই সন্তানকে খুনের পরিকল্পনা করছিলেন ওই নারী। তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে যে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া  গেছে, তা সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। 
জানা যায়, সূচনা কয়েক মাস আগে স্বামী পিআর বেঙ্কট রমনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে যার পরবর্তী  শুনানী আগামী ২৯ জানুয়ারি।

এ মামলায় আদালত সন্তানের বাবাকে প্রতি রোববার তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছিল। সম্ভবত সেই কারণেই সূচনা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ ছিলেন। স্বামীর ওপর সেই রাগ থেকেই তিনি সন্তানকে খুন করে থাকতে পারেন।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বালিশ অথবা কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে খুন করা হয়। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোনো ধস্তাধস্তির প্রমাণ মেলেনি। পুলিশ মনে করছে, খুনের আগে প্রচুর ওষুধ খাইয়ে শিশুটিকে ঘুম পাড়িয়ে ছিলেন সূচনা।তারপর বালিশ বা কাপড় দিয়ে তার মুখ চেপে ধরেন।তবে পুলিশের জেরায় এখন পর্যন্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সূচনা। তিনি জানান, ঘুম থেকে উঠে দেখেন, শিশুটি মারা গেছে। গত ৮ জানুয়ারি আটকের পর তাকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

শিশুটির বাবা বেঙ্কট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় কর্মরত। সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে এসেছেন। ময়নাতদন্তের পর শিশুটির মরদেহ তার হাতেই তুলে দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর আগের দিনই সন্তানের সঙ্গে কথা হয়েছিল বাবার। জাকার্তা থেকে ৭ জানুয়ারি রাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বেঙ্কট। তারপরই তাকে খুন করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। 

No comments