হত্যা মামলার ৭ মাস পর ফিরলেন নিখোঁজ সেই তরুণী, এলাকাজুড়ে তোলপাড় | Bogura TV | বগুড়া টিভি
বগুড়া টিভি ডেস্কঃ
তরুণী নিখোঁজের পর কথিত হত্যা মামলা। তাতে ৪০ দিন জেলও খাটেন রুবেল আলী নামে এক যুবক। ঘটনার সাত মাস পর সেই তরুণীই ফিরেছেন এলাকায়। এমন ঘটনায় তোলপাড় পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সর্বত্রই এ আলোচনা।
জানা যায়, গতবছর জুলাইয়ে খড়িয়াল চৌকা গ্রামের ববি বেগমের স্বামীর কাছে পাওনা টাকা চাইতে তার বাড়িতে যান রুবেল আলী। এর কিছুদিন পর ববি বেগম নিখোঁজ হলে রুবেলকে সন্দেহ করে থানায় জিডি করে তার পরিবার। এদিকে একই বছরের ২৬ জুলাই সদর উপজেলার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা করে পুলিশ।
পরে পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয় ল্যাবে। সাত মাসেও এর প্রতিবেদন আসেনি। কিন্তু সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় রুবেলকে। এরপর হত্যা মামলায় জেলও খেটেছেন ৪০ দিন।
গত ১৭ জানুয়ারি কথিত হত্যার শিকার ববি বেগম ফেরেন জীবিত হয়ে! এতেই শুরু হয় তোলপাড়। এরপর সুষ্ঠু তদন্ত না করেই হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রুবেল জানান, বাড়িতে প্রতিদিন দুই, তিন গাড়ি পুলিশ আসে। ৮/১০ দিনতো বাড়িতেই থাকতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে থানায় যোগাযোগ করতে গেলে আমাকে থানা পুলিশ মার্ডার মামলার আসামি হিসেবে ফাঁসায় দিলো। এছাড়া থানায় তিনদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়।
তবে কথিত হত্যা মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফজাল হোসেন এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। আর এখনো পুলিশি কার্যক্রমের সাফাই দিচ্ছেন সদর মডেল থানার ওসি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিন্টু রহমান বলেন, ববিকে উদ্দেশ্য করে পুলিশ রুবেলকে আটক করেনি। ঘটনাক্রমে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে রুবেলকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আইনে থানায় নির্যাতনের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছেন এ কর্মকর্তা। অন্যদিকে, জীবিত ফিরে আসা ববির দাবি, রুবেল তাকে নির্যাতন করেছিল।

No comments