শিরোনাম

সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল শাজাহানপুরের চাষীরা | Bogura TV | বগুড়া টিভি

সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল শাজাহানপুরের চাষীরা

নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশে তেল উৎপাদনে প্রধান ফসল হল সরিষা। তুলনামূলক ফলন কিছুটা কম হলেও নিজেদের সরিষা তেলের চাহিদা মেটাতে চলতি মৌসুমে বগুড়ার শাজাহানপুরের চাষীরা ব‍্যাপক সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। অর্জিত হয়েছে চলতি বছরে সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা। উপজেলার চারিদিকে হলুদের সৌরভে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ। কৃষক মাঠে কাজ করতে গেলে কৃষকের দৃষ্টি কাড়ে কেবল সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বরো মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষা চাষে লক্ষ‍্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ২ হাজার ৩শ হেক্টর জমি। যা এবছর উপজেলার কৃষকেরা অর্জন করেছেন বলে জানা গেছে। গত বছরে এ উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সে তুলনায় গত বছরেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার পরেও প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষাবাদ করেছিলেন চাষীরা।

আরও জানাগেছে; উপজেলা কৃষি অফিস হতে চলতি ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকদের প্রনোদনা হিসাবে ২ হাজার ৪০০জন চাষীদের মাঝে বারি-১৪, বারি-১৭ জাতের সরিষা বীজ বিতরণ করা হয়েছে। যেসব বীজ কৃষকেরা সঠিক সময়ে জমিতে বোপণ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন দেশীয় জাত সহ উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বীজও বোপণ করেছেন এ উপজেলার অনেক চাষীরা।

সরেজমিনে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের সরিষা চাষীরা জানান; বাজারে প্রয়োজনীয় নিত‍্যপণ‍্যের দাম তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে গেছে। তাই এবছর আমরা আলুর পাশাপাশি অল্প হলেও নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী সরিষা চাষ করেছি। সঠিক সময়ে সরিষা চাষ করলে ইরি/বরো ধান চাষ করে সময়ের মধ্যেই ধানও ঘরে তোলা যায়। ভালো ফলন হলে নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশে তেলের চাহিদাও কিছুটা মেটাতে পাবর। 

এ ইউনিয়নে সরিষা চাষ করেছেন মোখলেছুর রহমান, হায়দার আলী, আবু সাঈদ, আবু তালেব, মতিউর রহমান, বিপুল দেবনাথ, শাহাদাত, পিন্টু, আলাল উদ্দিন, আব্দুস সোবহান, আব্দুল হামিদ, সাফিকুল ইসলাম, দুলাল মিয়া, শহিদুল ইসলাম সহ অনেকেই। এছাড়াও এবছর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের কৃষকেরাই সরিষা চাষাবাদ করেছেন বলে জানাগেছে।

কথা হল গোহাইল ইউনিয়নের খাদাশ গ্রামের শহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, আমি এবছর তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আলুর চেয়ে সরিষা চাষে খরচ খুবই কম। তেমন কীটনাশক ব‍্যবহার করতে হয় না, সার কম লাগে। একবার সেচ দিলেই ফসল ঘরে তোলা যায়। তাছাড়াও ধান মাড়াই মেশিন দিয়ে সরিষার মাড়াই করা যায়। এতে আগের মত আর কষ্ট হয় না। মাড়াইয়ের পর সরিষা গাছ জ্বালানি হিসাবে ব‍্যবহারে খুব উপযোগী। এবার শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলেও জানান তিনি।

কৃষি অফিস সূত্রেজানা, সরিষার অল্টারনারিয়া ব্লাইট রোগ দমনে আক্রমণ দেখামাত্র ম্যানকোজেব অথবা ম্যানকোজেব + মেটালক্সিল জাতীয় বালাইনাশক (যেমন: ডায়াথেন এম ৪৫ অথবা রোভরাল ২০ গ্রাম) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে। ঔষধ স্প্রে করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অরোবাঙ্কি/ ঝাড় সরিষা দমনে ফুল আসার আগে জমি থেকে আগাছা অপসারণ। পরিমিত টিএসপি প্রয়োগ করুন।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন বলেন, এ উপজেলায় গত বছরের তুলনায় সরিষা চাষে কৃষকদের ব‍্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। এবার প্রায়ই আড়াই হাজার কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। এতে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সরিষা তেলের চাহিদা মেটানোর পরেও সারাদেশে সরিষা তেলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উপযুক্ত আবহওয়া পেলে এবার সরিষার ভালো ফলন পাবেন কৃষকেরা।


No comments