মাকে মারার বিচার চেয়ে নিজ হাতে লিখে লিফলেট লাগিয়েছে ছেলে | Bogura TV | বগুড়া টিভি
সাকিবুর রাইয়ান স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়া সদর থানার দেওয়ালে হাতে লেখা একটি পোস্টা'র দেখে চোখ আটকে যায় বগুড়া টিভির অনুসন্ধান টিমের।
পোস্টারে লিখা ছিলো, "আমি রুমান আমার মা কে মেরেছে, মাও: মানসুরুল করিম। মাও: সিরাজুল ইসলাম, মুয়াজ্জিন ভাটকান্দি মধ্যপাড়া। ভাটকান্দির আশেপাশের আরও মানুষ মেরেছে" আজ সকালে ঘটস্থল পরিদর্শন করে জানা যায় এ ঘটনার আসল সত্যতা। পোস্টার লেখক রুমান এর মা মারা গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে।
অতীব ও মেধাবী রুমান ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন ২০১৫ সালে। সরকারি চাকুরির তীব্র প্রত্যাশা থাকা সত্বেও উপরমহল এ পরিচিতি বা আর্থিকভাবে ঘুষ প্রদানের পরিস্থিতি না থাকায় চাকুরি প্রত্যাশি এ যুবক ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
এবং ধীরে ধীরে তিনি এখন তা রূপ নিচ্ছে এমন ভিত্তিহীন সব কাজে। তার দায়ের করা অভিযোগ এর উপর ভিত্তি করে পুলিশ এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার মানসিক ভাবে বিকারগস্ততার কথা।
এ বিষয়ে রুমানের এলাকাবাসীর মতামত চাইলে তারা জানান- অত্যন্ত মেধাবী রুমান মায়ের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পরে। এরপর মাস্টার্স ডিগ্রী ধারণ করার পর সে বিভিন্নভাবে সরকারি বিভিন্ন চাকুরীতে প্রস্তুতি সমেত আবেদন করতে থাকে। এক পর্যায়ে নিজের বসতবাড়ি বিক্রি করে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমেও চাকুরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হবার জন্য চিন্তা নেন এ যুবক। এবং তার এ চিন্তার বাদী হোন পরিবার। মূলত চাকুরির হতাশায় এবং দীর্ঘদিন গৃহবন্দী জীবনযাপন করায় রুমানের কার্যক্রম এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার এমন অসংলগ্ন আচরণ তার এবং এলাকাবাসীর জন্য হুমকি স্বরুপ।
এ বিষয় এ তার পরিবার বর্গের সাথে কথা হলে, রুমানের ছোট ভাই রাহিম হোসেন এবং বোন জান্নাতুল নেসা জুথি জানান- সরকারি চাকুরি না পাওয়ায় এবং শিক্ষিত হওয়া স্বত্বেও মূল্যায়ন না হওয়ায় দীর্ঘদিন গৃহবন্দী জীবনযাপন তাকে এমন করে তুলেছে। তারা তার চিকিৎসার ব্যাবস্থা করলেও আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছলতায় তা আর দীর্ঘ করা সম্ভব হয় নি।পরিবারের দাবি যোগ্যতা অনুসারে সরকারি চাকুরি পেলেই সুস্থ জীবনে ফেরত আসবেন এ মেধাবী যুবক।
প্রায় ভারসাম্যহীন রুমান এর সম্পূর্ণ নাম দেলোয়ার হোসেন রুমান। তিনি ভাটকান্দী, মধ্য পাড়া, ২১ নং ওয়ার্ড,বগুড়া সদর এর স্থায়ী বাসিন্দা।

No comments