শিরোনাম

আড়তে আসলেই কেজিতে বাড়ে ১০০ টাকা, বগুড়ায় সিন্ডিকেট চক্রের হাতে জিম্মি পেঁয়াজ | Bogura TV | বগুড়া টিভি


আজাদুর রহমানঃ

পেঁয়াজ নিত্যপন্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেঁয়াজ ছাড়া কোন সন্ধা ভালোভাবে রান্না করা যায়না। তাই বার বার পেঁয়াজের উপর দাম বৃদ্ধি করে ক্রেতাদের বিপদের সম্মুখীন করে বগুড়ার সিন্ডিকেট চক্র।

১০ ই ডিসেম্বর দুপুরে বগুড়া রাজা বাজারের আড়তে গিয়ে দেখা মেলে কেজিতে ১০০ টাকা মূল্য বেশি নেওয়ার মূল রহস্য। 

ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার মুখ থেকে বের হতে না হতেই বগুড়ায় পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি শুরু হয়ে গেছে। এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। ফলে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে অন্যায় করছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে দাম আরও বাড়তে পারে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে পর্যাপ্ত উঠলেই দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে।

শহ‌রের পাইকারি রাজাবাজার এবং খুচরা ফতেহ আলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একরাতের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে কেজিতে ৩০ টাকা এবং খুচরায় ৪০ টাকা বেড়েছে। নতুন দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। পুরাতন পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। যা গতকাল ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

গত ৬ দিন আগে রাজাবাজার থেকে পাইকারিতে ভারতীয় ভালো পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে কিনেছিলেন শহরের খান্দার এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে, পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজও বাজারে আসছে। ভেবেছিলাম দাম কমবে। যে কারণে আড়াই কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলাম। আজ বাজারে এসে খুব বেশি মেজাজ উঠে গেছে। আগে জানলে ওই সময় ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনে রাখতাম।

ফিরোজ আলম নামের আরেক ক্রেতা জানান, একটু সুযোগ পেলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা ক্রেতাদের সঙ্গে অন্যায় করছে তারা। আমাদের তো আর লাখ লাখ টাকা ব্যাংকে নেই যে সেখান থেকে উঠিয়ে খরচ করব। গায়ে বাঁধবে না। বেতনের টাকা দিয়ে এমনিতেই মাস যেতে চায় না।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মন্টু মিয়া জানান, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সকালে চাহিদা মতো পেঁয়াজ পাইনি। আমাদের কিনতেই হচ্ছে বেশি দামে। পুরাতন দেশি পেঁয়াজ এখন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

বগুড়ার রাজাবাজার আড়তদার পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, বগুড়ায় প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা ৫০ টন। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার কারণে দেশি পেঁয়াজের উপর চাপ পড়েছে। বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকার কারণে কেজিতে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাবে। ওই সময় দাম কমে আসবে।

পাবনা থেকে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা একজন ব্যাবসায়ী জানান, তিনি ১২০ টাকা দরে শুকনা পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসার কারনে গত সপ্তাহের বাজারের তুলনায় দাম অনেক বেশি হয়েছে।  তবে দেশি জাতের পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কমতে থাকবে।

একজন সাধারন ক্রেতা জানান, আমরা সমাজের সাধারণ মধ্যবিত্ব পরিবার। আমরা ২০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনলে অনান্য বাজার কিভাবে করবো। দেশের সমস্যার কারনে আমরা বেশি দামে বাজার করছি দেশের সমসার কারনে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বগুড়া রাজা বাজার আড়ৎদার সমিতির একজন ম্যানেজার জানান, আজ শুকনা পেঁয়াজ ১৭০-১৮৫ টাকায় ও কাঁচা পেঁয়াজ ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসার কারনে এমন সমস্যা হয়েছে। তবে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কমতে থাকবে। 

এ বিষয়ে রাজা বাজার আড়ৎদার সমিতির নেতা ও মদিনা এন্টারপ্রাইজ এর পরিচালক সাফায়েতুল ইসলাম বাবু জানান, কিছু সিন্ডিকেট চক্রের ব্যাবসায়ীরা পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে। আর ক্রেতারা চাহিদার চেয়ে বেশী পরিমাণ পণ্য কিনে বাজারে ঘাটতি তৈরি করে ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। তবে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কমতে থাকবে।

No comments