শিরোনাম

শিশুর কোনটা নিউমোনিয়া কোনটা ঠান্ডা কাশি, বুঝবেন যেভাবে | Bogura TV | বগুড়া টিভি

শিশুর কোনটা নিউমোনিয়া কোনটা ঠান্ডা কাশি, বুঝবেন যেভাবে

বগুড়া টিভি ডেস্কঃ

শীত এলেই শিশুদের নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্তের হার বেড়ে যায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের যেসব রোগে মৃত্যু বেশি হয়, তার মধ্যে অন্যতম নিউমোনিয়া। নিউমোনিয়া ছাড়াও যে কোনো সময় শিশুদের ঠান্ডা কাশি হতে পারে। তবে কীভাবে বুঝবেন শিশুর কোনটা নিউমোনিয়া এবং কোনটা ঠান্ডা কাশি। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রধানত চারটি লক্ষণ দেখা যায়-
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রথম লক্ষণ হলো, মাঝারি থেকে তীব্র জ্বর। দ্বিতীয় লক্ষণ, ভেজা ভেজা কাশি। তৃতীয় লক্ষণ হলো, শ্বাসকষ্ট। যার ফলে আক্রান্ত শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়, শ্বাস নেয়ার সময় বুকের খাঁচার নিচের অংশ দেবে যায়। এবং শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা কালচে দেখায়। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক ভালো অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা শুরু না করতে পারলে শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

ঠান্ডা কাশি হলে বুঝবেন যেভাবে- 
খাদ্যনালির ওপরের অংশে, গলার পেছনে ভাইরাসের সংক্রমণ বা ফ্যারিঞ্জাইটিস হলে গলা খুশখুশ করে, কাশি হয়, অল্প অল্প গলাব্যথা ও হালকা জ্বর। তেমন শ্বাসকষ্ট থাকে না। একটু লেবু চা, কুসুম গরম পানি এ সমস্যার চিকিৎসায় যথেষ্ট। শ্বাসনালির ওপরের অংশে, যেখানে আমাদের কণ্ঠস্বর তৈরি হয়, সেখানে ভাইরাসের সংক্রমণ হলে বিশেষ ধরনের ঝন ঝন শব্দে কাশি হয়। এতে শ্বাসনালিতে এক ধরনের গড়গড় শব্দের সঙ্গে শ্বাসকষ্টও হয়। শ্বাসকষ্ট বেশি হলে হাসপাতালে নিতে হবে।

দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র কাশির আরেকটা কারণ ব্রঙ্কিওলাইটিস। আক্রান্ত শিশু কাশির পাশাপাশি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগে। কাশি ও শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হয়। আক্রান্ত শিশুর শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা দেখে সে অনুযায়ী অক্সিজেন দেয়াই মূল চিকিৎসা।

কাশির আরেকটা কারণ হাঁপানি। এতে শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কিছুদিন পরপর কাশি হয়, শিশু ঘুমাতে পারে না। শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হয়। নিয়মিত ইনহেলারের মাধ্যমে হাঁপানির জন্য নির্ধারিত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

শিশুদের মেয়াদি কাশি বা হুপিং কফও কাশির কারণ। মাঝেমধ্যে দীর্ঘদিন কাশি, সঙ্গে হুপ করে একটা শব্দ এবং কাশতে কাশতে বমি করা এ রোগের লক্ষণ। অনেক সময় কাশির তীব্রতায় শিশুর চোখে রক্ত জমে যায়। ইরাইথ্রোমাইসিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দুই সপ্তাহের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য যত্নে রোগী সেরে ওঠে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশি বা জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির ওষুধ না দিয়ে আগে শিশুকে পর্যবেক্ষণ করুন। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বা অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

No comments