বগুড়ার মহাস্থানে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় আটক-১ | Bogura TV | বগুড়া টিভি
আজাদুর রহমানঃ
বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা মহাস্থান মাজার এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৪২ বছরের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলা ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহাস্থান মাজার এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণের চেষ্টাকারী মনোয়ার হোসেন মুন্না (৪২) নিজেই ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে রাত ১০ টার সময় ভর্তি করে দেয়।
পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সহিত মনোয়ার হোসেন মুন্নার কথা কাটাকাটি হলে ভিকটিমকে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে বগুড়া সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক আসামি মনোয়ার হোসেন মুন্নাকে আটক করে ভিকটিমকে সদর থানায় নিয়ে যান।
পরবর্তীতে শিবগঞ্জ থানা ওসি আব্দুর রউফকে বিষয়টি অবহিত করলে, ওসি আব্দুর রউফ ও এস আই আব্দুর রাজ্জাক শনিবার সকালে সদর থানায় গিয়ে আসামি ও ভিকটিমকে শিবগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। ভিকটিমের কাছে পুলিশ জানতে চায় তার পরিচয় তখন সে জানান তার বাবা একজন টাইল্স মিস্ত্রি, সে ঢাকা ফুলবাড়িয়া বিদ্যাচল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। শুধুমাত্র এই ঠিকানা বলতে পারে, এ ঘটনায় ভিকটিম পুলিশকে জানায়, কয়েকদিন আগে সে ঢাকা থেকে বাসে চড়ে বগুড়া মহাস্থান এসে মাজারে অবস্থান করছিল।
গত (৮ ডিসেম্বর) শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় মহাস্থান মাজার মসজিদের সিঁড়িতে বসে খাবারের জন্য কান্না কাটি করছিল ভিকটিম, ঐসময় আসামী মনোয়ার হোসেন মুন্না তার কাছে গিয়ে তাকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে সাথে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে বিস্কুট ও কলা খাওয়ায়ে মহাস্থান মাজার সংলগ্ন মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের পচ্চিম পাশে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে তার পরনের কাপড় চোপড় খুলে দুই স্তনে কামড় দিয়ে (ধর্ষণ) করার চেষ্টা করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তখন ধর্ষণের চেষ্টাকারী মনোয়ার হোসেন মুন্না তাকে চিকিৎসার জন্য সিএনজি যোগে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দিয়ে তাকে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে ডাক্তাররা পুলিশকে সংবাদ দেয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনোয়ার হোসেন মুন্নাকে আটক করে থানা নিয়ে এসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রউফ জানান, ভিকটিমকে রাজশাহী সার্পোট সেন্টারে রাখা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আমরা মেয়েটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। পরিবারের কাছে মেয়েটিকে হস্তান্তর করা হবে।

No comments