বগুড়া-৫ নির্বাচনী এলাকায় আ.লীগের সরব উপস্থিতি, বাঁকি প্রার্থীরা নিস্ক্রিয় | Bogura TV | বগুড়া টিভি
সুমন হোসেন, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়া-৫ (শেরপুর -ধুনট) নির্বাচনী এলাকা। দিনরাত চলছে নির্বাচনী প্রচারনা। এ নির্বাচনী আসনে ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন ৫ প্রার্থী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী মাঠে বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী (টেলিভিশন) প্রতিকে লড়ছেন আলী আসলাম হোসেন রাসেল, ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী (মিনার) প্রতিকে লড়ছেন নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) প্রতিকে লড়ছেন আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী (ডাব) প্রতিকে লড়ছেন মামুনার রশিদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল মনোনীত প্রার্থী (মশাল) প্রতিকে লড়ছেন রাসেল মাহমুদ। হাটে বাজারে পাড়া মহল্লায় এখন নির্বাচনী আমেজ।
চায়ের কাপে চলছে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা সমাচলোনা। পোষ্টারে ছেঁয়ে গেছে (শেরপুর-ধুনট) বগুড়া-৫ আসনের দুই উপজেলা। চলছে গনসংযোগ। ভোটারদের কাছে ছুটছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পৈতৃক নিবাস হিসেবে প্রার্থী আলী আসলাম হোসেন রাসেল বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর এলাকার পাঁচ দেউলী গ্রামের আবির হোসেনের ছেলে। নজরুল ইসলাম একই উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকার ঘাসুড়িয়া গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে।
মজিবর রহমান মজনু ওই উপজেলার উলিপুর গ্রামের জসমুত উল্লা মুন্সীর ছেলে। মামুনার রশিদ ধুনট উপজেলার খোকশাবাড়ী এলাকার বড়বিলা গ্রামের শুমার আলী প্রামানিকের ছেলে এবং রাসেল মাহমুদ শেরপুর উপজেলার উলিপুর কলেজ রোড এলাকার আরব আলী মন্ডলের ছেলে। বগুড়া-৫ আসনের শেরপুর ও ধুনট এ দুটি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। যার মধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৮ জন। প্রচার প্রচারনায় প্রর্থীরা তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে জয়লাভের জানান দিচ্ছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বিঘ্ন চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনা। প্রচারনায় ও গনসংযোগে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হয়নি। ৫ লাখেরও বেশি ভোটারের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছে ৫ জন। প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে উপজেলার অলিগলি। প্রার্থীর সমর্থকরা মিছিল মিটিংও করছে হরদম।
ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিনই প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত স্ব স্ব প্রার্থীর সমর্থকরা। সিএনজি, অটোরিক্সায় মাইকের আওয়াজে চলছে প্রচার উৎসব। তবে এবারের জাতীয় নির্বাচনে শহরে কিছু টা উৎসব মুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেলেও গ্রামাঞ্চলে খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পাড়া মহল্লায় অধিকাংশ প্রার্থীর নেই কোন নির্বাচনী কার্যালয়।
চা স্টলেও চলছে ভোটের সীমিত আলাপচারিতা। বলতে গেলে এ আসনে এবার নির্বাচনী হাওয়া প্রতিবারের মত ততটা জমে উঠেনি। প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রচারনায় বিঘ্নের সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। বিগত দিনে ভোটের পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন শঙ্কা করছে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য দলের চার প্রার্থী।
সাধারণ ভোটাররা জানান, প্রতিবারের মত এবার ভোট ততটা উৎসব মুখর মনে হচ্ছে না। গ্রাম পাড়া মহল্লায় নির্বাচন নিয়ে যেমন উৎসুক নেই, তেমনি নেই কোন উৎসাহ। এক,দুইজন প্রার্থী ছাড়া কাউকে চেনেনা অনেকে। কেউ বলছে বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না আশায় ভোটের আমেজ কিছুটা কম। নতুন ভোটাররা বলছে, প্রথম ভোটার হিসেবে একটি শান্তিপূর্ণ ভোট দেখতে চাই।

No comments