বগুড়ায় ৯ মাসের ব্যাবধানে একই ষ্টাইলে ইজিবাইক চালককে হত্যা! তদন্তে ধীরগতি | Bogura TV | বগুড়া টিভি
আজাদুর রহমানঃ
বগুড়ায় ৯ মাসের ব্যাবধানে একই ষ্টাইলে রিক্সা চালককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাবকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের ২২ অক্টোবর দুপুর ৩টার দিকে জেলার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে নাজমুল হাসান (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। নিহত নাজমুল গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা মধ্যপাড়ার জহুরুল প্রামানিকের ছেলে।
নাজমুলের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে তার সিএনজি চালিত অটোরিকশা বাড়িতে রেখেই বাড়ির বাইরে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রোববার দুপুর ২টার দিকে হাতিবান্ধা এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দুপুর ৩টায় লাশটি উদ্ধার করে। নাজমুলের শরীরে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
চলতি বছরের ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুরের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিজ বাসার ২ কিলোমিটার দুরে মহাসড়কের পাশ থেকে রাজু মন্ডল (৩৫) নামে এক অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করে শাজাহানপুর থানা পুলিশ। রাজু মন্ডল নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল হোসেন মন্ডলের ছেলে।
পরিবার জানায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রাজু। রাতে বাড়ি না ফিরলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মহাসড়কের পাশে তার লাশ স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে বেলা সাড়ে ১০টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত রাজুর শরীরের বুক ও পিঠে একাধিক ক্ষত চিহ্ন ছিল। তার অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে অটোরিকশা ছিনতাই করতে রাজুকে খুন করা হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইনস্পেক্টর তদন্ত আব্দুর রউফ শাজাহানপুর থানা থেকে বগুড়া সদর থানায় ইনস্পেক্টর তদন্ত হিসাবে বদলি হবার কারনে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দেওয়া হয়। দির্ঘ ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি।
পিবিআই পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরের কাছে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের অনেক মামলা আছে। তাই এত চাপ নেওয়া কঠিন হচ্ছে। তবে সময় লাগবে আমরা চেষ্টা করছি।
৯ মাস পরেই আবার একই ধারার হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। একই উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের নন্দগ্রাম সাতবিলা ফসলি জমিতে আপেল মাহমুদ (২২) নামে এক অটোচালকের জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে শাজাহানপুর থানা পুলিশ।
৬ ডিসেম্বর বেলা ১২ টায় মাদলা ইউনিয়নের নন্দগ্রাম সাতবিলা জমি থেকে তার উদ্ধার করে।রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে ধারনা করেছে পুলিশ। তবে নিহতের প্যান্টের বাম পকেটে ৩৪৬০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আপেল মাহমুদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার মৃত পিন্টু মিয়ার ছেলে। সে বগুড়া নারুলী এলাকার নানা-নানি বাসায় থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, সকালে সাতবিলা পাথারে জমিতে কাজ করতে গিয়ে একটি মরিচ ক্ষেতের পাশে সেচ নালার মধ্যে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির জবাই করা মরদেহ দেখতে পান এলাকার লোকজন। প্যান্ট পরা ওই ব্যক্তির পাশে মোবাইল ফোন পরে থাকতে দেখা গেছে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, আপেল মাহমুদ বগুড়া চেলোপাড়া এলাকায় থেকে ভাড়া নিয়ে অটোরিকশা চালাতেন। সোমবার বিকেল চারটায় বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। অন্যান্য দিন রাত ১০/১১ টার দিকে বাড়ি ফিরলেও সেদিন তিনি বাড়ি ফিরেননি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় রাতে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। পরে শাজাহানপুরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার খবর পেয়ে নিহতের নানি ও খালা লাশটি শনাক্ত করেন। এ সময় নিহতের জবাই করা লাশের বুকে ও পেঁটে ৪ টি ব্লেডের ফাড়ার চিহ্ন ও ২ পায়ের রগ কাটার চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত করে আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর জানান, আমরা মামলার তদন্ত করছি, ৯ মাস গেলেও এখনো তেমন কিছু পাইনি। কিছু পেলে আপনাদের জানাবো।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব-১২) কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, আমাদের প্রত্যেক মামলার ছায়া তদন্তের মাধ্যমে অগ্রসর হই, আমাদের মামলার তদন্ত খুব বেশি হবার কারনে আমরা চাপে আছি। বগুড়ায় একের পর এক হত্যা সংগঠিত হয়, তাই আমরা তদন্তে এখনো কিছু পাইনি।

No comments