মণে পেঁয়াজের দাম কমল ২ হাজার টাকা | Bogura TV | বগুড়া টিভি
বগুড়া টিভি ডেস্কঃ
পাবনায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দুই দিনের ব্যবধানে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম কমেছে দুই হাজার টাকা। আর একদিনের ব্যবধানে কমেছে মণপ্রতি হাজার টাকা। দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বনগ্রাম হাটে গিয়ে দেখা যায় নতুন মূলকাটা বা মুড়ি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২৬০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর পুরোনো হালি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ গড়ে পাঁচ হাজার টাকা।
বনগ্রাম হাট পাবনার অন্যতম বড় পেঁয়াজের হাট। সকালে এই হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পেঁয়াজের আমদানি। সেই সাথে পুরাতন পেঁয়াজের আমদানিও বেশি ছিল। নতুন মূলকাটা বা মুড়ি পেঁয়াজ প্রচুর পরিমাণে উঠেছে। হাটে জায়গা না পেয়ে অনেক চাষি রাস্তার ওপরই পেঁয়াজের বস্তা নামিয়ে বিক্রি করেন। মোকামে দাম কম হওয়ায় হাটের ব্যাপারীরাও কম দামে পেঁয়াজ কেনেন।
এদিকে গত শনিবার (৯ ডিসেম্বর) প্রতি মণ সাত হাজার টাকায় পুরোনো হালি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। আর প্রতি মণ পাঁচ-ছয় হাজার টাকায় নতুন মূলকাটা বা মুড়ি পেঁয়াজ বিক্রি হয়। মূলত পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণায় দাম কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাষিরা জানান, গত তিন দিনের ব্যবধানে উভয় রকম (পুরাতন হালি ও নুতন মূলকাটা) পেঁয়াজের দাম কমেছে মণপ্রতি দুই হাজার টাকা। আর একদিনের ব্যবধানে কমেছে মণপ্রতি প্রায় সাতশ থেকে এক হাজার টাকা। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সুজানগর উপজেলার চিনাখড়া হাটে প্রতি মণ মূলকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩৪০০-৪২০০ টাকায়। আর পুরাতন হালি পেঁয়াজের দর ছিল সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা মণ। অথচ মঙ্গলবার মূলকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২৬০০ থেকে ৩৫০০ টাকা মণ দরে। হালি পেঁয়াজের গড় দর ৫ হাজার টাকা মণ।
ওই হাটের একজন ব্যাপারী জানান, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় হাটে সরবরাহ কম থাকায়। সরবরাহ বেশি হলে পেঁয়াজের দাম কমে যায়। তারা ইচ্ছা করে দাম বাড়াতে পারেন না। এটা চাহিদা ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। মূলকাটা বা মুড়ি পেঁয়াজের মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে দাম এমনিতেই কমে আসে।
সদর উপজেলার কোলচুরি গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পেঁয়াজ আমদানি করে দাম কমিয়ে দেয়ায় এই ক্ষতি হয়েছে। আগের হাটে (শনিবার) যে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি সাত হাজার টাকা মণ, আজ (মঙ্গলবার) সেই পেঁয়াজের দাম বলছে পাঁচ হাজার টাকারও কম।
পেঁয়াজ ব্যাপারী ও আড়তদাররা জানান, পেঁয়াজের দাম দ্রুত বাড়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা। এছাড়া বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে না পারায় হাটে পেঁয়াজের সরবরাহ খুব কম ছিল। এজন্য দাম অসহনীয় পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। এখন আবার বিদেশ থেকে আমদানির খবরে পেঁয়াজের বাজার কমেছে।
পাবনার চাষি সংগঠক সিদ্দিকুর রহমান ওরফে কুল ময়েজ জানান, সাধারণ চাষিদের লাভবান করতে হলে মৌসুমেও ভালো দাম নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা লাভের অংশ অনেকাংশে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে যায়।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন জানান, এবার আবহাওয়া ভালো। কৃষির মাঠকর্মীরা চাষিদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

No comments