শিরোনাম

গাইবান্ধায় জেঁকে বসেছে শীত, টানা ৩ দিন দেখা নেই সূর্যের | Bogura TV | বগুড়া টিভি


বগুড়া টিভি ডেস্কঃ

গত কয়েকদিন থেকেই হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি গাইবান্ধার ৭ উপজেলাজুড়ে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা তিন দিন ধরে দেখা নেই সূর্যের। ফলে তীব্র শীতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছেন, কাজ-কর্মে বের হতে পারছেন না কেউ। আবার সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যেসব শীতবস্ত্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে তা-ও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
পুরো জেলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে। সেই সঙ্গে থেমে থেমে বইছে হিমেল হাওয়া। আবার রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশাও ঝরছে কোথাও কোথাও। হঠাৎ শুরু হওয়া এই শীতে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত এবং চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়াও পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষগুলো, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শীতে কষ্ট পাচ্ছেন বেশি। সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগও।

এদিকে, জেলা ও উপজেলা শহরের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে এখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। আর এই সুযোগেই বিক্রেতারাও দাম হাঁকছেন বেশি। এরমধ্যে জেলা শহরের গাউন মার্কেট ও গরম কাপড়ের দোকানগুলোয় ব্যবসায়ীরা কাপড়ের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ফলে অর্থাভাবে নিম্নআয়ের মানুষদের পক্ষে শীতের কাপড় সংগ্রহ করাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে হঠাৎ করেই শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক বানানোর হিড়িক পড়েছে জেলাজুড়ে।

অন্যদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ অন্য নদ-নদীতে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে মূল ভূমির সঙ্গে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই রাতে ঘন কুয়াশার কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে অনেকেও দিনের বেলাতেও গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছেন।

এছাড়াও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকায় সরিষা গাছের ফুল, কালাইয়ের ফুল, শিম গাছ, লাউ গাছের ফুল ঝড়ে পড়তে শুরু করেছে। আলুর গাছেরও ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা।

এমতাবস্থায় জেলায় দরিদ্র-শ্রেণির মানুষগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্রের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফুলছড়ির কেতকির হাট গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। গরম কাপড়ের অভাব রয়েছে। সংসারের খরচ কিনব, না গরম কাপড় কিনব? পেট চালানোই যেখানে দায়, সেখানে গরম কাপড় কীভাবে কিনব?

কামারজানির গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, স্বামীর আয়-রোজগারে তেমন একটা সচ্ছল নই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটছে। তার ওপর প্রচণ্ড ঠান্ডায় আমাদের অবস্থা শোচনীয়। গরম কাপড় দিলে খুবই উপকার হতো।

No comments