শিরোনাম

প্রতারণায় মেতে উঠেছে দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক রুমা-রফিকুল দম্পতি | Bogura TV | বগুড়া টিভি


আজাদুর রহমানঃ

অসুস্থ হলেই মানুষ হয়ে পড়ে অসহায়। আর অসহায় রোগী আর রোগীর স্বজনদের হয়রানি করে অর্থ আদায় করায় একমাত্র লক্ষে কাজ করছে দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার। 

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় ২০০৬ সালে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল”। আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীরা আসেন এই হাসপাতালটিতে। সময়ের ব্যবধানে রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠে বেশকিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার। 

প্যাথলজিষ্ট না থাকলেও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় অপারেটর আর অফিস সহকারী দিয়ে। এমন বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম গেটের সামনে অবস্থিত দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

বেশ কিছু দালাল (প্রতিনিধি) নিয়োগ করে দীর্ঘদিন থেকেই দিনের পর দিন মানুষকে হয়রানি করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আগত রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এই দালাল দম্পতি এতটাই চালাক যে সেখানে পৌঁছাতে পারেনা জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোন আভিযানিক দল। কারন বেশ কিছুদিন আগে দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিচে হেনা সিটি স্কান সেন্টারে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আর তাকে সহযোগিতা করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার। কিন্তু আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছা মাত্রই কার্যালয় বন্ধ করে দেন দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রুমা-রফিকুল দম্পতি। আর আশপাশ থেকে আভিযানিক দলের কার্যক্রম লক্ষ করতে থাকেন এই দম্পতি। কারন এভাবেই তারা কৌশলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যেন আইন তাদের কার্যক্রম পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে।

পূর্বেও বেশ কয়েকবার জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, এবং র‍্যাপিড অপশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাবের অভিযানে দালাল চক্র নির্মূলের সময় আটক করা হয় দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রুমাকে। তবে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালতকে জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায় রুমা। 

সাথে তাল মিলিয়ে রুমার অপরাধের সহযোগিতা করছে তার স্বামী রফিকুল ইসলাম। বেশ কয়েকবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল নির্মূলের সময় ধরা পরে ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে। বার বার জরিমানা গুনে ছাড়াপায় রফিকুল। তবে একাধিকবার জরিমানা গুনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে এই রফিকুল। 

প্রতিদিন সকাল ৯ টায় নিজের প্রতিষ্ঠানে আসেন এই  দম্পতি। ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলেই হাজির হন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত রুগীকে টার্গেট করে পরীক্ষা নিরীক্ষা থাকলেই রোগীর স্বজনদের ফুসলিয়ে নিয়ে যায় তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যথাযথ পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি বেশকিছু প্রতিনিধি মাঠে নামিয়ে এসব রোগীকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোগীর স্বজন জানান, ফুসলিয়ে এক লোক দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। কিন্তু ডাক্তার বলছেন এগুলো মেশিনে ভালো পরীক্ষা হয়না। পরে পপুলারে অর্ধেক দামে পরীক্ষা করে আমার সমস্যা ধরা পড়েছে।

নওগাঁ থেকে আসা এক রোগী জানান, আমি মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিবো কিন্তু বগুড়ার তেমন কিছু চিনিনা। এক লোক এসে আমাকে দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করিয়েছে। কিন্তু তাতে আমার কোন কাজ হলনা। অথচ ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সাথে কথা বলতে গেলে সে আমাকে বাজে আচরন করে তাড়িয়ে দিয়েছে। 

দির্ঘদিন ধরেই দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার দায়ে জরুরী বিভাগের সামনে আন্ডারগ্রাউন্ডে দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা সিভিল সার্জন।

বার বার জরিমানা গুনেও প্রতারণায় থেমে নেই এই রুমা-রফিকুল দম্পত্তির। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালত দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়। পরে বেশ কিছুদিন গাঁঠাকা দেয় রুমা-রফিকুল দম্পতি,  কিন্তু কিছুদিন পর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক অফিস সহকারীর সাথে খাতির জমিয়ে কাগজপত্র জমা দেন। এখন বৈধ কাগজের আদলে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে এই দম্পতি এমন বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে এই দম্পত্তির বিরুদ্ধে। 

ছিলিমপুর এলাকার বেশ কিছু সুনামধন্য ব্যাবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যাক্তি, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগীতা কাজে লাগিয়ে রমরমা এই প্রতারণা বানিজ্য করে আসছে রুমা-রফিকুল দম্পতি। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিমাসে সন্তোষজনক মাসোয়ারা দিতে হয় সহযোগিতা করা সেই ব্যাক্তিদের। 

তবে দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যাবস্থাপনা
পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ বানোয়াট। আমরা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেই। মেডিক্যালে আমাদের কোন দালাল নেই। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে দালাল চক্র নির্মূল কার্যক্রমের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন? এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমাদের কাগজপত্র ছিলনা তাই সিভিল সার্জন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে শাস্তি দিয়ে জরিমানা করেছেন। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রেজভী জানান, যারা সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের সাথে হাত মিলিয়েছে তারা দেশের শত্রু রাষ্ট্রের শত্রু। কোনভাবেই তাদের ছাড় দেওয়া যাবেনা। আমরা প্রমান সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন শফিউল আজম জানান, আমরা এরকম অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

No comments