শিরোনাম

মাদকের অভয়ারন্য বগুড়ার প্রাণ কেন্দ্র সাতমাথা ও এর আশেপাশের সড়ক | Bogura TV | বগুড়া টিভি


বগুড়া টিভি ডেস্কঃ 

বগুড়ার প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা যেন দিন দিন মাদকের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে, ছিন্নমূল শিশুদের ড্যান্ডি (জুতার সোল লাগানোর বিশেষ সলিউশন আঠা) থেকে শুরু করে, হোমিওপ্যাথি ঔষধ এলকোহল, বাংলা মদ সবই যেন পাওয়া যায় হাত বাড়ালেই।

আর সহজলভ্য এই মাদক সেবন করে মাদক সেবীদের মাতলামো দিন দিন বেড়েই চলেছে, এতে করে ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়, এবং বাড়ছে নানান রকমের অপরাধ।

শহরে পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে ছিন্নমূল পথশিশুরা এলোমেলো অবস্থায় পলেথিনে করে জুতার আঠা ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। 

অপরদিকে সাতমাথার টেম্পল রোডে অবস্থীত বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সামনের রাস্তা, চৌকিপট্টি খ্যাত গলিতে, সন্ধ্যার পর দেখা যায় মাদক সেবিদের আনাগোনা, তারা অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করে, দিনের আলো শেষে রাত যতো গভীর হয় মাদক সেবন যেনো ততই বাড়তে থাকে।

বগুড়া টিভির অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে গড়ে উঠেছে‌ মাদকের বৈধ ও অবৈধ ব্যাবসা দোকান।

এর মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে পাওয়া যায় দেশি ও বিদেশি ব্রান্ডের মদ, মেরিনা রোডে হোমিওপ্যাথি ঔষধ হিসেবে ব্যাবহৃত এলকোহল বিক্রি হচ্ছে একদম প্রকাশ্যেই, অপরদিকে সদর পুলিশ ফাঁড়ির পেছনের গলিতে মেথর পট্টিতে বাংলা মদের ছড়াছড়ি, স্টেশন রোডে নতুন রেলওয়ে মার্কেটের পিছনে গাজা, মদ, ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে দিনের আলোতে কোন রকম রাখঢাক ছাড়াই।

আর এইসব চলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর নাকের ডগায়, অনেকটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মত করে অস্বাভাবিক একটি কালোজগৎ সৃষ্টি হয়েছে বগুড়া শহরজুড়ে।

আর মাদকের এই সহজলভ্য অবস্থাই যেন মাদক-সেবিদের বেপরোয়া করে তুলেছে। উঠতি বয়সের মাদক সেবীরা মাদকের টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে ছিচকে চুরি সহ নানা রকম অপরাধের সাথে, শহরের ছিন্নমূল মাদকের টাকা জোগাড় করতে পকেট কাটার মত অপরাধে জড়াচ্ছে,অপরদিকে উঠতি বয়সী কিশোররা মাদকের টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে চুরি-ছিনতাই সহ নানান রকম অপরাধের সাথে।

মাদক সেবন করে নেশায় বুধ হয়ে আবার অনেকেই বার্মিজ চাকু হতে দন্ধে জড়াচ্ছে একে অপরের সঙ্গে, এতে করে মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছুড়িকাঘাতের মত ঘটনা।

এমনকি সাতমাথার মুজিব মঞ্চের সামনে মাঝে মধ্যেই চোখে পড়ে মাদকের নেশায় মাতাল হয়ে মাতলামি করা মাদকাসক্তদের, মারামারিতেও জরিয়ে পরে অনেকেই, এতে অনেক সময় সাধারণ মানুষ ও এই মাদকসেবীদের কাছে অপদস্থ হন। 

এমনই এক ঘটনায় গত বুধবার ২২ নভেম্বর আনুমানিক রাত ১ টায়, বগুড়া টিভির নিউজ ইনচার্জ, ফয়সাল হোসাইন সনি, বগুড়ার সাতমাথায় অবস্থিত মুজিব মঞ্চের সামনে চিহ্নিত কিছু মাদক সেবনকারীদের হামলার শিকার হন, উক্ত বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি অভিযোগও করা হয়েছে। 

সচেতন মহল মনে করছেন, বগুড়া শহরের আশেপাশে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে এই মাদকের বেচাকেনা এখনই যদি রোধ করা না যায়, তাহলে শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনু বলেন,আমার বিষয়টি জানা নেই,পার্টি অফিসের এই গলিতে মাদক সেবন খুবই লজ্জা জনক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর নাম ভেঙ্গে কেউ যদি কোন মাদকের সাথে জড়িত হয়,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদকের বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদ্য পদন্নোতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) স্নিগ্ধ আখতার জানান,মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে,মাদক সেবি ও কারবারিদের কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না, বগুড়াকে যেকোন মূল্যে মাদকমুক্ত করবে জেলা পুলিশ। আমরা মাদক এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষাণা দিয়েছি,মাদকমুক্ত বগুড়া গড়তে আমাদের জেলা পুলিশ আরোও বেশি অভিযান করবে।

No comments