লাখ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা, প্রতারিত শতাধিক গ্রাহক | Bogura TV | বগুড়া টিভি
নরসিংদীর রায়পুরায় স্বল্প সুদে জামানতহীন ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ‘মধুমতি ফাউন্ডেশন’ নামের একটি ভুঁইফোড় এনজিও।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় রমিজ উদ্দিনের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ফাঁদে পা দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তার অভিযোগটি ওঠে এনজিওটির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এনজিওটির ফাঁকা অফিসে প্রতারণার শিকার জোছনা বেগম, তাসলিমা, পারুল, সানিয়া শান্তি বেগম, স্বপন মিয়া ও আকলিমা বেগমের মতো আরও অনেকে হতাশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টাকা ফেরত চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভুক্তভোগীরা জানান, স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে স্বচ্ছলতা ফিরবে পরিবারে। ঘুচবে অভাব নামক যন্ত্রণা। ‘মধুমতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ভুঁইফোড় এনজিও এলাকার কয়েক শতাধিক মানুষকে এমন স্বপ্ন দেখিয়েছিল। স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার আশায় এই মানুষগুলো নিজেদের গচ্ছিত টাকা জমা করে এই প্রতিষ্ঠানে।
কিন্তু মঙ্গলবার সকালেই কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। সকাল থেকেই ওই এনজিওর প্রধান কার্যালয় ফাঁকা পড়ে আছে। এনজিওর শতাধিক গ্রাহককে কার্যালয়ের সামনে দেখা গেলেও দেখা মেলেনি কার্যালয়ে দায়িত্বরত কাউকে।
প্রতারক চক্রটি সপ্তাহখানেক আগে থেকে পৌর এলাকার শ্রীরামপুর রমিজ উদ্দিনের বাসায় প্রতিষ্ঠানের নাম করে অফিস সাজিয়ে বসে। উপজেলার পৌর এলাকা, শিবপুর, আলগী, উত্তর বাখর নগর আর চরমরজালসহ বিভিন্ন গ্রামে মানুষের কাছ থেকে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে মাঠে নেমে। দুই-তিন বছরের এককালীন এক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে ওই ঋণ পেতে কিছু শর্ত জুড়ে দেয় এই প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগীরা জানায়, ঋণ পেতে হলে লাখ প্রতি ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় দিতে হবে। আর কিস্তি হিসেবে বছর শেষে গ্রাহককে সুদ দিতে হবে আট থেকে ১২ শতাংশ হারে। এভাবে যে যত টাকা ঋণ নেবে সে অনুপাতে সঞ্চয় জমা দিতে হবে। আর এই ঋণ নিতে কোনো জামানত লাগবে না।
ভুক্তভোগী জোৎস্না বেগম, তাসলিমা, পারুল, সানিয়া শান্তি বেগম, স্বপন মিয়া, আকলিমাসহ আরও অনেকে জানান, প্রবাসী ব্যবসায়ী ঋণদেয়ার নাম করে সঞ্চয় জমা করে। মঙ্গলবার ঋণ দেয়ার কথা ছিল। খবর পেয়ে অফিসে এসে দেখি প্রতারক চক্রটি লাপাত্তা। কষ্টের টাকাগুলো পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বাসার মালিক রমিজ উদ্দিনের মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কল দিলে ‘কথা বুঝি না’ বলে কেটে দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়টি অবগত নই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments