শিরোনাম

বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকল্পের প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট | Bogura TV | বগুড়া টিভি



আজাদুর রহমানঃ

বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে 
প্রকল্পের প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার ২০৬ জন সদস্যগণ সাক্ষর করে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি দেওয়া হয়েছে,
পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়, বগুড়া।

পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস, মাননীয় মেয়র বগুড়া পৌরসভা, বগুড়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বগুড়া সদর উপজেলা, বগুড়া। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সদর থানা, বগুড়া। কাউন্সিলর, ১ নং ওয়ার্ড, বগুড়া পৌরসভা, বগুড়াকে।

অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার বর্তমান আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় পনের হাজার। 
মরহুম ময়েজ উদ্দিন আহম্মেদ কর্তৃক পরিচালিত হাউজিং কোম্পানির প্রস্তুতকৃত প্লান বগুড়া পৌরসভার অনুমোদনক্রমে এলাকাটি “স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকা" হিসাবে গড়ে উঠেছে।

প্লানটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১ টি পার্ক, ১টি কমিউনিটি সেন্টার ও ৩টি জলাধার অন্তর্ভুক্ত আছে। জলাধার ৩টির মধ্যে (১) বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের পূর্ব পাশে, মৌমিতা এ্যাপার্টমেন্ট, মোহনা এ্যাপার্টমেন্ট, লেক সিটি এ্যাপার্টমেন্ট, লেক সাইড এ্যাপার্টমেন্ট, লেকভিউ এ্যাপার্টমেন্টসহ অনেকগুলো বহুতল ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ১টি প্রাকৃতিক জলাধার।

(২) দিনাজপুর রোড হতে সুবিল ব্রিজ পর্যন্ত বিদ্যমান পাকা রাস্তার উত্তর পাশে নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলাধার। (৩) স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার দিলরুবা রোডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ১টি প্রাকৃতিক জলাধার।

বর্ণিত (১) এবং (২) জলাধার বর্তমানে উক্ত এলাকার (ক) অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণ পূর্বক এলাকাকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করে (খ) অগ্নি দুর্ঘটনা হতে স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকা ও উপশহর হাউজিং এস্টেটসহ আশপাশের এলাকাকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে।

পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত প্লানে এখনো জলাধারগুলি অপরিবর্তিত আছে। মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুসারে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকার বিদ্যমান জলাশয় ও উদ্যানের শ্রেণী পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

কিন্তু সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকেই উক্ত জলাধারগুলোর মধ্যে (৩) নং জলাধারটি ইতিপূর্বে ভরাট ও বিক্রি করা হয়েছে যেখানে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। (২) নং জলাধারটিও বিক্রি করা হয়েছে। 

২০১৮ সালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ক্রেতাগণকে ভরাট করতে নিষেধ করা সত্বেও বর্তমানে ভরাট কার্যক্রম চলমান আছে। (১) নং জলাধারটিও ভরাট করার উদ্দেশ্যে বিক্রয় করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানান, প্রাকৃতিক জলাধার থাকলে সেখানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। পাশাপাশি অগ্নি দুর্ঘটনায় জলাধারের প্রয়োজন হয়। তাই ক্রেতাগণকে ভরাট করতে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক পানির নির্ভরযোগ্য উৎস উক্ত জলাধার দুইটির ২ নং জলাধারটি ভরাট কার্যক্রম স্থগিত এবং ১ নং জলাধারটি ভরাট পূর্বক আবাসন নির্মানের উদ্দেশ্যে বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

No comments