বোনকে হাত উপহার দিতে তুরাগের বাম হাত কেটে নেয় তুষার | Bogura TV | বগুড়া টিভি
সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মো. তুষার ওরফে কানা তুষারের মাদক ব্যবসার সমস্ত টাকা পয়সার হিসাব নিকাশ রাখতো কলেজ ছাত্র আসাদুজ্জামান নুর তুরাগ। তুরাগ টাকা পয়সার গড়মিল করলে বিবাদে জড়ায় কানা তুষার ও তুরাগ। তুরাগ তুষারকে বাম হাত দিয়ে চড়
এই বিবাদের কথা জানার পর তুষারের বোন স্বপ্না তুষারের কাছে তুরাগ যে হাত দিয়ে তার ভাইকে চড় মেরেছে সে হাতটি কেটে উপহার হিসেবে চায়। তুরাগকে হত্যার দিন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তুরাগের বাম হাত কেটে নিয়ে বোনকে উপহার হিসেবে পাঠায় তুষার।
ফরিদপুরের আলোচিত কলেজ ছাত্র তুরাগ হত্যা মামলার আরও তিন প্রধান আসামির আটকের পর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় আসামিরা। যদিও তুরাগের কাটা বাম হাতটি উদ্বার করতে পারেনি এখনও পুলিশ।
রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরাগ হত্যার নানা তথ্য দেন পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ।
তুরাগ হত্যার মূল আরও ৩ আসামিরা হলেন- মো. রাজন ওরফে কালা রাজন (২৬), তার ছোট ভাই মো. সাজন (২৪) এবং মো. জুয়েল শেখ (৩৮)। এদের মধ্যে রাজন ও সাজন দুই ভাইকে গাজীপুর এবং জুয়েলকে গোয়ালন্দ থেকে আটক করে পুলিশ। এদের সকলের বাড়ি ফরিদপুর সদরে। এর আগে গত ৬ নভেম্বর এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মো. টিপু খাঁ (৩৫) এবং ১৭ অক্টোবর মো. আব্বাস জমাদ্দার(৩৫) গ্রেপ্তারের পর জবানবন্দী নেয়া হয়।
গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ধুলদি গোবিন্দপুর গ্রামের জামাল মোল্লা এর মেহগনি ও কলা বাগানের মধ্যে নির্মম ভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে আসাদুজ্জামান নুর তুরাগকে। এ সময় তুরাগের বাম হাত কেটে নিয়ে উল্লাস করতে করতে পালিয়ে যায় সন্ত্ররীরা।
এ ঘটনায় তুরাগের বাবা মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার (৬৭) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এদিকে তুরাগের হাতটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। আসামি রাজন এবং সাজনের দেয়া তথ্যমতে সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাষানচরে পলাতক আসামি শাহিন শেখ (৩৭) এর ঘরের ভেতর হইতে ২টি রামদা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাদ দিয়ে সংবাদ সম্মলনে আরও জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আসামি কানা তুষার এবং তার সহযোগীদের সাথে তুরাগ এর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল।
গত জানুয়ারিতে কবি জসীম মেলার সময় আসামি তুষার তুরাগকে ৪১ হাজার টাকা দেয় মাদকদ্রব্য (গাঁজা) কেনার জন্য কিন্তু তুরাগ টাকার কথা অস্বীকার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুষার তুরাগকে মারার হুমকি দেয়। তাতে তুরাগ ক্ষিপ্ত হয়ে তুষারকে এলোপাথাড়ি কোপায়।
এই বিরোধের জের ধরে ঘটনার কিছুদিন পূর্বে আসামি কানা তুষারের বাড়িতে বসে আসামি কানা তুষার, রাজন, সাজন, টিপু, জুয়েল, শাহীন, সোহাগসহ ৭ জন মিলে তুরাগকে মারার পরিকল্পনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ জলিলসহ ফরিদপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তা বৃন্দ এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

No comments